ব্লাড সুগার বা রক্তের গ্লুকোজ পরীক্ষা
ব্লাড গ্লুকোজ পরীক্ষা কী?
ব্লাড গ্লুকোজ পরীক্ষা মূলত আপনার রক্তে চিনির বা সুগারের মাত্রা মাপে। শরীরের কোষগুলোকে সঠিকভাবে কাজ করার শক্তি জোগায় এই সুগার। রক্তে সুগার খুব বেড়ে বা কমে গেলে তা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
ডাক্তার কেন এই পরীক্ষা দিতে পারেন?
সাধারণত নিচের কারণগুলোতে একজন চিকিৎসক আপনাকে এই পরীক্ষাটি করাতে বলতে পারেন:
- রক্তে সুগারের মাত্রা বেশি বা কম আছে কি না তা দেখতে।
- আপনার ডায়াবেটিস বা প্রি-ডায়াবেটিস আছে কি না তা নির্ণয় করতে।
- গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস (Gestational diabetes) শুরু হয়েছে কি না তা চেক করতে।
পরীক্ষার প্রস্তুতি ও প্রকারভেদ
সব ধরনের পরীক্ষাতেই হাতের শিরা থেকে সামান্য রক্ত নেওয়া হয়। তবে টেস্টের ধরনের ওপর ভিত্তি করে আপনার প্রস্তুতি আলাদা হতে পারে:
র্যান্ডম ব্লাড গ্লুকোজ (RBS)
এই পরীক্ষাটি দিনের যেকোনো সময় করা যায়। এর জন্য আপনাকে খালি পেটে থাকা বা বিশেষ কোনো প্রস্তুতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
ফাস্টিং ব্লাড সুগার (FBS)
এটি সাধারণত সকালে করা হয়। টেস্টের আগে কমপক্ষে ৮ ঘণ্টা পানি ছাড়া অন্য কোনো খাবার বা পানীয় গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (OGTT)
এটি মূলত দেখায় আপনার শরীর অতিরিক্ত সুগার কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। এর জন্য আপনাকে বেশ কিছুক্ষণ না খেয়ে (ফাস্টিং) থাকতে হবে।
- প্রথমে খালি পেটে শিরা থেকে সামান্য রক্ত নেওয়া হবে।
- এরপর নির্দিষ্ট মাত্রার একটি মিষ্টি পানীয় (মিষ্টি সোডার মতো) অল্প কয়েক মিনিটের মধ্যে খেতে দেওয়া হবে।
- পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এক বা একাধিকবার আপনার রক্ত নেওয়া হবে।
- টেস্টটি শেষ হতে ৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। শেষবার রক্ত দেওয়ার পর আপনি স্বাভাবিক খাবার খেতে পারবেন।
রিপোর্টের অর্থ এবং পরবর্তী পদক্ষেপ
কখন এবং কেন পরীক্ষাটি করেছেন তার ওপর ভিত্তি করে রিপোর্ট পেতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে। আপনার রিপোর্টে কোনো অস্বাভাবিকতা থাকলে চিকিৎসক বা নার্স আপনাকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাবেন। অস্বাভাবিক ফলাফলের কারণ জানতে আরও কিছু টেস্টের প্রয়োজন হতে পারে। যদি কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা ধরা পড়ে, তবে চিকিৎসক আপনার সাথে আলোচনা করে একটি সঠিক চিকিৎসা পরিকল্পনা তৈরি করবেন।